বাংলাদেশের সঙ্গে উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা সংস্কৃতি গড়তে কাজ করবে ঘানা

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৩:২৬  

ডিজিটাল অর্থনীতিতে উন্নত বিশ্বের সঙ্গে সমান তালে এগিয়ে যেতে প্রযুক্তি ভিত্তিক উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা গড়ে তুলতে ঐক্যমতে পৌঁছেছে বাংলাদেশ ও ঘানা। এজন্য উভয়দেশেই উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা সংস্কৃতি গড়ে তুলতে বৈঠক করেছেন দুই দেশের আইসিটি মন্ত্রী।

মঙ্গলবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়েদে ‘রিয়াদ ফ্রন্ট এক্সপো অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টার’-এ এ বিষয়ে আলোচনা করেন বাংলাদেশের আইসটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এবং ঘানার কমিউনিকেশন মন্ত্রী উরসুলা ওউসু-ইকুফুল। আলোচনায় তারা নিজ নিজ দেশে উদ্ভাব ও উদ্যোক্তা বান্ধব পরিবেশ তৈরিতে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বৈঠক শেষে নাইজেরিয়ার যোগাযোগ ও ডিজিটাল অর্থনীতি বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ইসা আলী ইব্রাহিমসহ বিভিন্ন দেশের কয়েকজন আইসিটি মন্ত্রীর সাথে এবং সৌদি আরব ও বিশ্বের বিভিন্ন নেতৃত্বদানকারী প্রযুক্তি উদ্যোক্তা, গবেষক ও বিজ্ঞানীদের সাথে মতবিনিময় করেন। নৈশভোজের ওই বৈঠকে ঘাতকের বুলেটে নিহত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি সহমর্মিতা জ্ঞাপন করেন।

এর আগে সোমবার রাতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এবং বহুজাতিক ডিজিটাল সহযোগিতা সংস্থা ‘ডিজিটাল কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন’ (ডিসিও) এর মহাসচিব দীমা আল ইয়াহিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে তারা ডিজিটাল উদ্ভাবন খাতকে কিভাবে এগিয়ে নিয়ে যায় সে বিষয়ে আলোচনা করেন।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ২০৪১ সাল নাগাদ স্মার্ট বাংলাদেশ রূপকল্প অর্জনে বাংলাদেশ এবং ডিজিটাল কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন এক সাথে কাজ করার বিষয়ে ঐকমত পোষণ করেন।

এসময় অন্যান্যোর মধ্যে আইসিটি প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব মোঃ মুশফিকুর রহমান এবং ডিসিও এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বাংলাদেশের তরুণরা অত্যন্ত মেধাবী উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশের মোট জনগোষ্ঠীর দুই-তৃতীয়াংশই তরুণ। এই তরুণ জনগোষ্ঠীই আমাদের সম্পদ। তরুণদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সফলতার সাথে কাজ করছে। ফলে দেশে আইটি/আইটিইএস খাতে প্রচুর কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে খুব দ্রুতই তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্ববাজারের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ অর্জন করা সম্ভব হয়েছে।

পলক বলেন, নিত্য নতুন উদ্ভাবনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে নিজেদের আত্মপরিচয় তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে। আমরা ইতোমধ্যেই ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করেছি। এখন ৪টি স্তম্ভ নির্ধারণ করে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে কাজ করছি।

এছাড়াও তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ও খ্যাতনামা ডাটা সমাধান ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (TIQUAH) এর সিইও আয়মান আল ফালাজ এর মধ্যে সৌদি আরবের এলইএপি টেক কনফারেন্সে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের ডাটা ইঞ্জিনিয়ারিং ও সিকিউরিটি সেক্টরকে পরবর্তী স্তরে নিয়ে যেতে একসাথে কাজ করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।